Wednesday, July 26, 2017

আগামীকাল প্রথম আলো বন্ধুসভা কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্দোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি!!!


 
Md.Rasel। Blogger
আগামীকাল বৃ্হস্পতিবার প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্দেগে সারাদেশব্যাপি বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার সিটি কলেজে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি  পালন করা হবে।এতে সার্বিক সহযোগিতায় থাকবে প্রথম আলো কক্সবাজার জেলা শাখার বন্ধুরা।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়সহ শিক্ষকবৃন্দ!!

Monday, July 24, 2017

এই মাত্র প্রকাশিত হল ২০১৬ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষ পর্রীক্ষার রুটিন!!

Md.Rasel(Blogger)

#Hons_4th_yer_Routine_Published _2016
#Session: 2012-2013
.
২০১২-২০১৩ সেশনের ২০১৬ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু ২৩/৮/২০১৭ তারিখ থেকে যা চলবে ৯/১০/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত
.
পরীক্ষা আরম্ভের সময় দুপুর ১.৩০ মিনিট
নিচে রুটিন!!!!




Sunday, July 23, 2017

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাশের হার কুমিল্লা বোর্ডে!!!




Md.Rasel:(Blogger)

এক লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষার্থীর কুমিল্লা বোর্ডে এবার পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা গতবছর ৮৪ শতাংশ ছিল।

আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯১২ জন থেকে কমে ৬৭৮ জন হয়েছে।

সব বোর্ড মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে এবার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এবারের এইচএসসির ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষার সময় পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করায় পাসের হার কমেছিল। সেই পদ্ধতি এবার এইচএসসিতে প্রয়োগ করা হয়েছে।

আর কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ তার বোর্ডের ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করছে পরীক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে।”

এ বোর্ডে এবার ইংরেজিতে পাসের হার ৬২ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর গণিতে পাস করেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

সারা দেশে পাসের হার কমলেও কুমিল্লা বোর্ডে এই ধসের কারণ জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, “কুমিল্লায় মনিটরিং অনেক কঠোর ছিল।”

তবে কুমিল্লা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে এ বোর্ডে। তার প্রভাব এসএসসির মত এইচএসসিতেও পড়েছে।

এসএসসি ও সমমানে দশ বোর্ডে যেখানে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এবার পাস করেছে, সেখানে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

এইচ.এস.সিতে কক্সবাজার সরকারি কলেজের অভাবনীয় সাফল্য!!!

 মো: রাসেল।

২৩/০৭/২০১৭ তারিখ প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে অতীতের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এবারও গৌরবজনক ফলাফল করেছে। এবারে কলেজের পাশের ৯২.৯৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মোট পাশের হার ৬১.০৯ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, চট্টগ্রাম কলেজের পাশের হার ৯০.১৭%, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের পাশের হার ৮৭.৮৫%, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের পাশের হার ৬৩.৭২%।
এ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে কক্সবাজার সরকারি কলেজ পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত এবং উৎফুল্ল। এ ফলাফলের জন্য কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরী কলেজের সকল সম্মানিত শিক্ষক, কর্মচারি, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দের প্রতি অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে আরো ভাল ফলাফল করার জন্য সর্বমহলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা কামনা করেন।

#source cgc website

Tuesday, July 18, 2017

কম্পিউটারে টাইপিং শিখুন খুব সহজে.........!!!

মো:রাসেল-প্রযুক্তির খবর;
আমরা যারা কম্পিউটারের কীবোর্ডে হাত রাখলেই হাত কাপে বা টাইপিং করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যাই পড়ি তাদের জন্য আমার কিছু কথা শেয়ার করলাম।
আজকে আপনাদের এমন একটি সফটওয়্যারের সাথে পরিচিত করাবো যেটা হয়ত অনেকের  দ্রুত টাইপিংয়ের  জন্য উপকারে আসবে।সফটওয়্যারটির নাম হল Typing Master.

কিভাবে,কোথায় সফটওয়্যারটি পাওয়া যাবে?
Typing Master.exe লিখে Google এ search দিলে এই সফটওয়্যারটি পাওয়া যাবে।
এ সফটওয়্যারটি ব্যবহারের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হল এটি টাইপিং শেখার জন্য step by step  কোর্সের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।

আমি ব্যবহার করে  আমার টাইপিং স্কিল আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি করতে পেরেছি।আশা করি আপনার ও ভাল লাগবে।
ভাল লাগলে শেয়ার করে  সবাইকে জানিয়ে দিন।

Thursday, July 13, 2017

আর নয় ইংরেজি ভয়!!!!

নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি ভাষার ভয় দুর করার লক্ষে এবং ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলার জন্য কক্সবাজারের প্রানকেন্দ্র অবস্থান করছে "Tahmid's English Zone" নামক একটি প্রতিস্টান।সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী  উপায়ে ইংরেজি শেখানোর জন্য ইতিমধে প্রতিস্টানটি ভাল সুনাম অর্জন করেছে।প্রতিস্টানটির  সার্বিক তত্তাবধানে আছেন জনাব তাহমিদুল মুনতাসির। তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।এরপর তিনি শিক্ষকতা নিজেকে নিয়োজিত করেন।তিনি বর্তমানে পৌর- প্রিপ্যার‍্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।এমন নজির  খুব কমই আছে যেখানে ইংরেজি বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে সাধারণত কেউ মফস্বলে ফিরে আসেনা।অথচ তিনি প্রানের শহর কক্সবাজারে ইংরেজিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভয় দূর করতে ফিরে আসেন নিজ শহর কক্সবাজারে।

Wednesday, July 12, 2017

আউটসোর্সিংয়ে ক্যারিয়ার করুন!!!


ব্লগার রাসেল
:বর্তমান সময়ে মুক্তপেশা বা আউটসোর্সিং সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি।এর মানে হল কোন ব্যক্তির নিকট দায়বদ্ধ না থেকে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা।আমাসের দেশে এই পেশায় কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।এবং আমাদের দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ন  ভুমিকা রাখছে।তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটন শহর কক্সবাজেরও এই  সম্ভাবনাময় পেশায় দক্ষ জনবল তৈরীর লক্ষে কক্সবাজারের প্রানকেন্দ্রে  অবস্থান করছে কক্সবাজার টেক- আইটি ফার্ম।

Tuesday, July 11, 2017

একটুর জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন তামিমের স্ত্রী আয়েশা


নিউজ ডেক্স:
পরশু রাতে সপরিবার রাতের খাবার খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় ফিরছিলেন তামিম ইকবাল। ঠিক তখনই কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করে। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে বেঁচেছেন তাঁরা। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত তামিম কাল রাতেই লন্ডন থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে দেশের বিমান ধরেছেন। এসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ৮-৯টি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার ফিরছেন মাত্র এক ম্যাচ খেলেই।
স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ও পুত্র আরহাম ইকবাল খানকে নিয়ে ৭ জুলাই ইংল্যান্ডে যান তামিম। দেশে ফেরার কথা ছিল আগামী মাসের শুরুতে। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য লন্ডনে এক মাসের জন্য একটি বাসাও ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। পরশুর ঘটনাটা লন্ডনের ঠিক কোন জায়গায় ঘটেছে, সেটি কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও বিসিবির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক বলেছেন, ‘তামিম ও তার পরিবারকে ধাওয়া করেছিল কয়েকজন লোক। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি। এ ঘটনার পরই তামিম দেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।’ আক্রমণকারীদের হাতে অ্যাসিড ছিল বলেও শুনেছেন তিনি। বিসিবির দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তার ধারণা, ‘তামিমের স্ত্রী মাথায় হিজাব পরেন। হয়তো সে কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি তামিমকে।
এর আগে কাল বিকেলে কাউন্টি ক্লাব এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত’ কারণে তামিম ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে ইংলিশ কাউন্টির ক্লাবটি আরও লিখেছে, ‘আমরা তার মঙ্গল কামনা করছি। এই সময়ে তামিমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান জানালে আমরা খুশি হব।’
দেশে ফেরার ‘ব্যক্তিগত’ কারণটা কী, জানতে চাইলে তামিমের বড় ভাই নাফিস ইকবাল ও চাচা আকরাম খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে দুজনই বলেছেন, তামিম নিজেই দেশে ফিরে এসে কারণ জানাবেন। এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও।
বেশ কিছুদিন ধরেই ইংল্যান্ডের রাস্তাঘাটে ভিন্ন মত ও বর্ণের মানুষের ওপর কে বা কারা অ্যাসিড ছুড়ে মারছে। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন ইস্ট লন্ডনের বেকটনে রেশম খান ও জামিল মুক্তার নামে দুজনের ওপর এ রকম আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পথচলতি মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়াসহ অন্যান্য আক্রমণের ঘটনা তো ঘটছেই। তামিমের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে এসব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি।

৩০ বছর ধরে বাবা মাকে খুজছেন বাদল



গ্রামের বাড়ি, পরিচয় জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন ঢাকার রমনা পার্ক ওভারব্রিজ এলাকায় লেবুর শরবত বিক্রেতা মোঃ বাদল। এর কিছুক্ষণ পর ছলছল করে উঠল তার চোখজোড়া। এই ছলছল চোখের বহিঃপ্রকাশ ঘটল কিছুটা চাপাস্বরে এক কান্নায়। এরপর চোখ গড়িয়ে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে এই পাথরের এই শহরটার মাটিতে।
বাদল জানালেন, তার বাবা-মায়ের নাম জানা নেই। জানেন না তার গ্রামের নাম কী ? সে ত্রিশ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল। এখনো সে তার বাবা-মাকে খুঁজছেন।
৩৬ বছর বয়সী বাদল এখনো আশাবাদী যে সে তার বাবা-মাকে খুঁজে পাবে। বাদলের ভাষায় – ‘যদি বাবা-মাকে খুঁজে পাই তাহলে স্বর্গ পাবো। খুব কষ্ট লাগে, কেউ জানতে চাইলে বলতে পারি না বাবার নাম-মায়ের নাম। বলতে পারি না গ্রাম কোথায় ?’
যখন ৬ বছর বয়স তখনই বিপর্যয় নেমে আসে বাদলের জীবনে। কেবল স্মৃতির খণ্ডাংশ মনে আছে তার। বাদল বলেন, ‘আমার বাবা ঢাকা কিংবা নারায়ণগঞ্জ চাকরি করতেন। বাবা চিঠি লিখে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। হঠাৎ বাবা চিঠি লেখা বন্ধ করে দেন, মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। মা চাইলেন বাবার ঠিকানায় আসতে। আমার মা আমাকে ও এক ছোট বোনকে নিয়ে সন্ধ্যা বেলা লঞ্চে ওঠেন। দেড় দিন পর মা লঞ্চ থেকে মুন্সীগঞ্জ নামেন। তারপর নারায়ণগঞ্জ আসি।’
‘নারায়ণগঞ্জে আমার ফুফু কিংবা খালার বাসায় ছিলাম। ওই বাসার ওঠার পরদিন আমার ওই খালা বলেন, ‘মোড়ের দোকানে তোর খালু বসে আসে। বাসায় ডেকে নিয়ে আসতে পারবি?’ আমি বলি, ‘পারব।’ এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা হাঁটতে থাকি। পথ খুঁজে পাই না, যে বাসাতে ছিলাম সেই বাসাও আর খুঁজে পাই না। এক সময় দুপুর গড়িয়ে আসে। আমি কান্না শুরু করি। ইসরাইল নামে এক লোক তার বাসায় নিয়ে যান।’
‘যারা আমাকে উদ্ধার করেন তারা বেশ বড়লোক। পাঁচতলা বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তারা পুরো শহরে মাইকিংও করেছে। কিন্তু মায়ের সন্ধান পাননি।’
‘বাদল’ বলেন, সবসময় কান্না করতাম। তারা আমার নাম জানতে চেয়েছিল। আমার নাম কী ছিল সেটাও ওই সময় বলতে পারিনি। মায়ের জন্য খারাপ লাগত। যারা উদ্ধার করেন, তারা আমার নাম রাখেন মালু। কিন্তু বুদ্ধি হওয়ার পর বুঝতে পারলাম এই নামটা আমার পছন্দ না। নিজেই নিজের নাম দিলাম। নাম দিলাম ‘বাদল।’ এখন আমি বাদল নামেই পরিচিত।
যারা আপনাকে উদ্ধার করল তাদের বাসায়ই থাকতে পারতেন জানালে বাদল বলেন, ‘আমার কেবল মনে হতো লঞ্চে গেলে মা-বোনকে দেখতে পারব। একটু বুদ্ধি হওয়ার পর লঞ্চে ওঠা শুরু করি। এছাড়া যারা আমাকে উদ্ধার করেছিল তারাও অনেক আদর করত। কিন্তু মনে হতো এরা আমার আপন কেউ না, কেবল করুণা করে আশ্রয় দিয়েছে। আমি বাসার বাইরে বেরিয়ে যেতাম। সদরঘাট, নয়াবাজার, সোয়ারিঘাট, কমলাপুর ঘুরে বেড়াতাম কাঙালি অবস্থায়। মাঝে মধ্যে সদরঘাট থেকে লঞ্চে উঠে পড়তাম। বুদ্ধি হওয়ার পর বুঝতে পারি মা আমাকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ স্টেশনে নেমেছিলেন।’
‘এক সময় লঞ্চে ওঠা নেশা হয়ে গেল। লঞ্চে ঘুমাইতাম। লঞ্চের মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেতাম। কেউ টাকা দিত, কেউ খাবার দিত। নারায়ণগঞ্জের সেই বাড়িতে আর ফিরে যাইনি। কারণ আমি তো এতিম। ওরা আমার রক্তের কেউ না। ঘুরতে ঘুরতে বরগুনায় গেছি। বরগুনা শহরটা আমার কেমন যেন পরিচিত লাগে। মনে হলো, এই শহরটা আমি আগেও দেখেছি। বরগুনা স্টেশনের পাশে একটা খাল, সেখানে একটা কাঠের পুল ছিল। এই পুলটা দেখার পর মাথার ভেতর কেমন যেন চক্কর দিয়ে ওঠে। আমার কেন যেন মনে হয়েছে, এই পুলে আমার ভাইকে নিয়ে খেলা করেছি।’
বাদল বলেন, ‘আমার এক বড় ভাই ছিল। কলেজে পড়ত। ভাই সাগরে মাছ ধরতে যেত। সাগর দেখার পর ভাইয়ের কথা মনে পড়েছে। কিন্তু আমি তো ভাইয়ের নাম জানি না, গ্রামের নাম জানি না। মা-বাবা কারো নামই জানি না। বরগুনায় গিয়ে নানা লোকের কাছে খোঁজ করেছি। কিন্তু আপনজন কারোরই সন্ধান পাইনি।’
‘আমি নিশ্চিত আমার বাড়ি বরগুনায়। কারণ শহর পরিচিত লাগে, ভাই সাগরে মাছ ধরতে যেত, আর সেই কাঠের পুলে খেলা করতাম। শহর কিংবা শহরের আশেপাশের গ্রামে আমার বাড়ি।’
বাদল জানান, লঞ্চে লঞ্চে ঘুরছি। বরিশাল গিয়েছি, পটুয়াখালী গিয়েছি, বরগুনায় গিয়েছি। মনে হতো লঞ্চে আমার মা বসে আছেন। আমার বোন বসে আছেন। মনে হতো, লঞ্চে গেলেই তাদের দেখা পাবো। লঞ্চে ওঠার পাশাপাশি ভাঙারি টুকাতাম, পলিথিন কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করতাম। এভাবেই রাস্তায় রাস্তায় বড় হয়েছি। কেটে গেছে ৩০ বছর।’
এরই মধ্যে বাদল বিয়েও করেছেন। স্ত্রী মালার সঙ্গে পরিচয় রাস্তাতেই। সেও ভাঙারি কুড়ানি মেয়ে। এখন এই দম্পতির ঘরে তিন সন্তান। বাদল ও মালা বাসা নিয়েছেন মান্ডায়। প্রতি মাসে ভাড়া ৩৫০০ টাকা। পার্ক এলাকায় লেবুর শরবত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। স্ত্রীও মাঝে মধ্যে এই ব্যবসায় সহায়তা করেন।
জীবন এভাবেই চলছে বাদলের, তবুও আক্ষেপ তার। প্রশ্ন তার এ জীবনে রক্তের কাউকে কি খুঁজে পাবো ? বাদল ভুলে গেছেন মায়ের মুখ, বাবার মুখ, ভুলে গেছেন ভাই-বোনের মুখ। ছয় বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া বাদল এখন ফিরতে চান মায়ের কাছে। জীবনে আর কোনো চাওয়া নেই তার। বাদলের জিজ্ঞাসা – ‘মা নিশ্চয় এখনো কাঁদেন হারিয়ে যাওয়া তার ছেলের জন্য ?’ মায়ের সামনে একবার হাজির হয়ে বাদল বলতে চান, ‘মা তোমার ছেলে এখনো বেঁচে আছে।
কার্টেসী-সময়ের কণ্ঠস্বর 

Tahmid's English Zone...